খুলনায় আসল আসামির পরিবর্তে আদালতে প্রক্সি দিয়ে জামিন নেওয়ার অভিযোগে ফেরদৌস আলম সেতু নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে দিঘলিয়া উপজেলার বরইতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থানা পুলিশ। সেতু ওই এলাকার শাহ আলম বিশ্বাসের ছেলে।
রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া থানার সিআর-৬৩/২০২৫ নম্বর মামলার মূল আসামি হলেন ফিরোজ আলম শাওন। গত ১৬ মার্চ খুলনার জুডিশিয়াল আদালত নং-৪ থেকে শাওনের নামে জামিন নেওয়া হয়। তবে গত ২৩ এপ্রিল মামলার বাদী মুন্সী তরিকুল আমিন হলফনামা (এফিডেভিট) দিয়ে আদালতকে জানান, শাওন বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তার জায়গায় অন্য কেউ ভুয়া সেজে জামিন নিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে গত ৭ জুলাই মামলার মূল আসামি শাওনের পক্ষে নতুন ওকালতনামা দিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া পাসপোর্টের ফটোকপি পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হয় যে, জামিন নেওয়ার সময় শাওন সত্যিই দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
আইনজীবীর সহযোগিতায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া আসামির জামিন করানোর এই অপরাধে গত ২২ জুলাই জুডিশিয়াল আদালত নং-৪ এর ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ফিরোজ আলম শাওন, আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুরোধ জানান।
এই জালিয়াতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান খান জানান, জামিন জালিয়াতির মামলায় শনিবার রাতে দিঘলিয়া থেকে ফেরদৌস আলম সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই মামলার অপর আসামি এক আইনজীবী বর্তমানে জামিনে আছেন এবং আরেক আসামি বিদেশে পলাতক রয়েছেন।





