ভিটেবাড়িহীন মিশন আচার্যের শিক্ষক পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

Published: October 4, 2026, 1:30 pm

নিজের কোনো নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ আটকে যাওয়া সেই মিশন আচার্যের নিয়োগ চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মিশনের পক্ষে একটি আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হলে শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন।

রাশেদ খাঁন ও মিশন আচার্য দুজনেরই গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। আজ বেলা দুইটায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে রাশেদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বরাবর দেওয়া ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান নামক স্থানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আজ অবধি সেখানে একটি ভাড়া বাসায় সপরিবার বসবাস করছেন।

ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, ছোটবেলা থেকে পিতৃহীন হিসেবে বড় হওয়া মিশন আচার্যকে তাঁর গর্ভধারিণী মা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫–এ যথাযথভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সংবাদ শোনা যায়নি এবং তিনি অত্যন্ত ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। এসব বিষয় ও মানবিক বিবেচনায় বিধি অনুযায়ী নিজ এলাকার সন্তান মিশনের নিয়োগপত্র দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান রাশেদ খাঁন।

উল্লেখ্য, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তাঁর মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করে মিশন আচার্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাঁর নিয়োগপত্র আটকে যায়। তাঁর সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়ে গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগদান করেছেন। কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়ায় মিশন যোগদান করতে পারেননি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo