নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের সোমবারের মধ্যে সমাধানের আল্টিমেটাম

Published: October 4, 2026, 2:31 pm

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থীরা রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে, এরপর পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিমের সঙ্গে দুই প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করে ১৩ জনের প্রবেশপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দেন। অধিদপ্তর থেকে তাদের জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা তাদের ক্ষোভ তুলে ধরেন। রংপুরের পীরগঞ্জের মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত কাউকে বাদ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। মামুনের অভিযোগ, তার বাবা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হওয়ার কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যদিও তাকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তিনি উপজেলা, জেলা শিক্ষা অফিস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।

নিয়োগপত্র না পাওয়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার মো. আবু তালহা ও মো. নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের মো. আতেনান হোসেন ও মো. জুয়েল ইসলাম, ভোলার মো. ফয়জুল আলম, খুলনার সৈকত মণ্ডল এবং জামালপুরের আরফিনা আক্তার। তাদের অনেকেই জানান, তারা বাদ পড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানেন না। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এর আগে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়োগপত্র প্রদানের সময় অনেকের নাম না থাকায় আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। প্রার্থীদের দাবি অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন। আন্দোলনের মুখে পড়ে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও এখনো অনেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন। যেমন ময়মনসিংহে ২৫৯ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ২৪১ জন নিয়োগপত্র পেলেও দুজন এখনো পাননি। বর্তমানে নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের যোগদান প্রক্রিয়া চলছে এবং অধিদপ্তর তাদের পদায়ন নিয়ে কাজ করছে।

বঞ্চিত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান বা সমস্যার স্পষ্ট সমাধান না পাওয়া গেলে তারা পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার এই বিষয়টি এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh