উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, আগামী জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন

Published: September 17, 2026, 1:23 pm

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সানাউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকবেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে কমিশনের নিজস্ব বৈঠকে এই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে কমিশন ইউপি নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় হলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে।

তবে এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমের কারণে কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ব্যাহত না হয়।

এছাড়া নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও কমিশন বিবেচনায় রাখছে। সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও রয়েছে। কমিশন এসব বিষয়কে যৌক্তিক মনে করে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এর সমাধান খুঁজছে।

সময়সূচির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় মিললেও ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের মধ্যবর্তী সময়ে কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে কীভাবে সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন কাজ করছে।

ইউপি নির্বাচনের আগের পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তা নাকচ করে দেন সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেন, আগে ঘোষিত সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ছিল একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin