শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া আইনগত ও সুসংগঠিত: দীনেশ ত্রিবেদী

Published: October 3, 2026, 9:25 am

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক সেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বারবার এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। যেহেতু বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এবং আদালত এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাকে ভারতে নিয়ে যায়নি। তৎকালীন বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে আসেন। তিনি বলেন, সেই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারত এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি নিজে টেলিভিশনে বিষয়টি দেখেছিলেন এবং তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত তাকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তাকে ফিরিয়ে দিলে বা অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিত, তা বলা কঠিন ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন নিরপরাধ মানুষকে আর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

ভারতের হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দুই দেশই আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে। বর্তমানে যে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে, তা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই বলে জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা ভালোভাবেই বোঝেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের কোনো প্রশ্নই আসে না।

দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যেমন মতপার্থক্য থাকে, দুই দেশের সম্পর্কেও তেমন কিছু বিষয় থাকতে পারে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক, তবে সংলাপ, আলোচনা ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল এবং ভবিষ্যতেও ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো উদ্বেগের কারণ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি আরও বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের মানুষ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন তিনি ভালোভাবেই বোঝেন, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও মৌলিক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin