লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে মানুষ এখন বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছে। শুক্রবার প্রকাশিত ১৭টি দেশের ওপর পরিচালিত ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। ১৯৯৫ সালে বার্ষিক এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের দিক থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেল।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকার ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন, যা ছয় বছর আগে ছিল ৪৮ শতাংশ। বিপরীতে, বর্তমানে ৫৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করেন, যেখানে ২০২০ সালে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ। তবে সামগ্রিকভাবে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা এখনো চীনের চেয়ে বেশি। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন, আর চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ। যদিও ২০২৪ সালে জো বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা ৭৩ শতাংশে ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
লাতিনোব্যারোমেট্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে জানান, ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী দুই দশকে ওয়াশিংটনের এই অঞ্চলে প্রায় অনুপস্থিতি পরিস্থিতির পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই শূন্য সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। লাগোসের মতে, চীন মূলত কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটের শূন্যস্থান পূরণে সহায়ক হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে কেবল কোস্টারিকা ও ডমিনিকান রিপাবলিকে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচক মনে করা হয়। এছাড়া, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাটি আর্জেন্টিনা ছাড়া লাতিন আমেরিকার সব দেশেই অধিকাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন। তবে মাদুরোর আটকের ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ, আর ২৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন এতে দেশটির ক্ষতি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। দুই শতাব্দীর বেশি পুরনো মনরো ডকট্রিনের আদলে তৈরি এই কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এই অঞ্চলের ওপর ওয়াশিংটনের একচেটিয়া প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭টি দেশে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপটি চালানো হয়েছে। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা ১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরের দুই দশকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।





