এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মেয়েদের পর ছেলেরাও এবার খালি হাতে ফিরল, ফলে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে রইল উশুতে জেতা ব্রোঞ্জটি। ৯ নম্বরে নামা নাসুম আহমেদ ২৮ বলে ২৬ রান না করলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। সংক্ষিপ্ত স্কোরে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (রত্নায়েকে ৬৫, আরাচাগে ৩৩, বান্দারা ১৮; মেহেদী ২/১৯, সাইফ ২/২৮, মোস্তাফিজ ২/৪৩, রিশাদ ১/৪৬) এবং বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে ১০২ (নাসুম ২৬, ইয়াসির ২১, পারভেজ ২০, হৃদয় ১১, রিশাদ ১০; থুসারা ২/১৮, রত্নায়েকে ২/১৮, ভিয়াসকান্ত ২/২৬, সাহান ২/১৭)।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। প্রথম ওভারের শেষ বলে নুয়ান থুসারার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে আউট হন সাইফ হাসান। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে তানজিদ হাসানও ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তবে ওই ওভারের শেষ বলে পারভেজ হোসেন বাউন্ডারি মারলে বাংলাদেশ প্রথম রান পায় এবং বাংলাদেশ: ২ ওভারে ৪/২ স্কোর দাঁড় করায়। এরপর ২১ রানে ছিল না ৪ উইকেট। ১০ ওভারে রান কেবল ৫১। অধিনায়ক লিটন দাসও থুসারার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে যান, ফলে ২.৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৯/৩। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দল পড়ে যায় চরম বিপদে। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা তাওহিদ হৃদয় এবার ৬ বলে ১১ রান করে আউট হলে বাংলাদেশ: ৪.২ ওভারে ২৩/৪ স্কোরে পরিণত হয়।
এরপর পারভেজ হোসেন (২০) ও মেহেদী হাসান পরপর দুই বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে মেহেদী অসন্তুষ্ট থাকলেও ৬৪ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ইয়াসির আলীর ২১ ও রিশাদ হোসেনের ১০ রানের কল্যাণে বাংলাদেশ ১০২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। শ্রীলঙ্কার পক্ষে থুসারা ২/১৮, রত্নায়েকে ২/১৮, ভিয়াসকান্ত ২/২৬ এবং সাহান ২/১৭ উইকেট নেন।
এর আগে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। প্রথম ওভারে মেহেদী হাসান কোনো বাউন্ডারি দেননি। পরের ওভারে অভিষিক্ত আলিস আল ইসলামও রান আটকে রাখেন। ২.১ ওভারে ৭/১ স্কোরে শ্রীলঙ্কার প্রথম উইকেট তুলে নেন মেহেদী, যখন সিনাথ জয়াসুরিয়া (৩) বোল্ড হন। একই ওভারের পঞ্চম বলে ক্রসপুল্লে ক্যাচ দেন ইয়াসিরের হাতে। এরপর আলিস আল ইসলামের ওভারেও আসে জোড়া উইকেট। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফার্নান্দোকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন উইকেটের পেছনে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলিসের প্রথম উইকেট। এই ওভারের পঞ্চম বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান সোহান ডি লিভেইরা। শ্রীলঙ্কা: ৪ ওভারে ২১/১ স্কোরে পৌঁছায়। ৩.৫ ওভারে ২১ রানেই ছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান দাঁড়ায় ৫৪/৪।
আশেন বান্দারা ও সাহান আরাচাগের জুটিটি বাংলাদেশের অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। শ্রীলঙ্কা: ১০.২ ওভারে ৫৩/৪ স্কোরে এই জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। তাঁর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন বান্দারা (১৮)। আরাচাগে ও বান্দারার জুটি থেকে আসে ৪০ বলে ৩৩ রান। এরপর শ্রীলঙ্কা: ১৪. ৫ ওভারে ১০৪/৫ স্কোরে পৌঁছায়। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ১৪তম ওভারে আসে ২৫ রান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রিশাদ হোসেনও শেষ দুই ওভারে ৩৭ রান দেন। থারিন্দু রত্নায়েকে মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৩২ বলে ৬৫ রান (৭ চার ও ৫ ছক্কা) করে মোস্তাফিজের বলে আউট হন। শ্রীলঙ্কা: ১৮.১ ওভারে ১৪৭/৬ স্কোরে রত্নায়েকে বিদায় নেন। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামের। শরিফুল ইসলামের জায়গায় তিনি একাদশে সুযোগ পান। মোসাদ্দেক হোসেনের বদলে খেলেন ইয়াসির আলী। বাংলাদেশ একাদশ ছিল: লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলী, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, আলিস আল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশ: ২ ওভারে ৪/২.২১ রানে ছিল না ৪ উইকেট।
শ্রীলঙ্কা: ১০.২ ওভারে ৫৩/৪.৩.৫ ওভারে ২১ রানেই ছিল ৪ উইকেট।





