ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: এক দিনে গ্রেপ্তার ১৭৪৭

Published: October 3, 2026, 4:42 am

রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং তহবিল বরাদ্দের দাবিতে দেশটির সাত শর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন। গত শুক্রবার বিভিন্ন শহরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় একদিনেই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

গত সপ্তাহে প্যারিসে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন আর কেবল হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় রূপ নিয়েছে। তার তথ্যমতে, সহিংস বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সজুড়ে ৩ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টি বিদ্যালয় কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের জেরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজির মতো সামগ্রী জব্দ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ টিএফ-১ টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ফ্রান্স এখন দাঙ্গা ও নগর সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এটি বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বিএফএম টিভিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও ঢুকে পড়েছেন।

উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বেলফোর শহরে এক পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং মাথায় বারবার ঘুষি ও লাথি মারে। এছাড়া প্যারিসের উপকণ্ঠে পান্তিন এলাকায় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। স্ট্রাসবুর্গে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে এবং রেন ও প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লোলা এএফপিকে বলেন, তাদের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা জয়ী হয়েছেন, তবে পুলিশের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। লোলার দাবি, পুলিশের তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া বা আঘাত করার কোনো অধিকার নেই এবং তাদের এই আচরণ ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo