মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা এলাকায় বাসের টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা সেতুর ওপর এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের সেলিম ঘরামীর ছেলে এমারত ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে গিয়ে সামনের সিট চেয়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি এই অনুরোধ জানালে কাউন্টারের সুপারভাইজার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ নিয়ে কাউন্টার কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন।
এ ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এমারত পুনরায় কাউন্টারে গেলে আবারও বিবাদের সৃষ্টি হয়। ওই সময় সবুজ ও আকাশের সঙ্গে এমারতের বাগ্বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে, যা উপস্থিত লোকজন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গৌরনদীর খানজাপুর এলাকার ফিরোজ কাজী, এনামুল তালুকদার, কামাল ফকির ও বাবলু মুন্সি বাঁশ ব্যবসায়ী হাবুল ঘরামীকে তুলে নিতে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকায় প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আল আমিন, জান্নাত সরদার, শরীফ ও আকাশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।





