ইরান সীমান্তে রণপ্রস্তুতি: নতুন রণতরি ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Published: October 3, 2026, 4:52 am

ইরানের চারপাশে নতুন করে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ব্যাপক রণপ্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে নাকি কেবল আলোচনার টেবিলে দেশটিকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের পতনশীল ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি বহর মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ বিমানবাহী রণতরি বহরটি গত রবিবার মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এর একদিন পর রওনা হয়েছে ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (এমইইউ), যাতে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্ত হতে পারে।

আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই সামরিক সরঞ্জামের বহরে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর অবতরণকারী বহর অবস্থান করবে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক আলোচনা যেভাবেই চলুক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি প্রস্তুত রাখাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহারের পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই মার্কিন বাহিনী যুদ্ধে জড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্যমতে, বাহরাইন, মিশর, ইরাক, ஜর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনার নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি। ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় প্রথমবার বৈরুতে ১৫ হাজার মেরিন সেনা পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প এই উপস্থিতি আরও বাড়াতে শুরু করেন, যার অংশ হিসেবে প্রথমে আরব সাগরে পাঠানো হয় বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।

military বিমান চলাচল পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টিরও বেশি বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আকস্মিক বিমানশক্তি বৃদ্ধি। এর মধ্যে রয়েছে ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস, এফ-৩৫ স্টেলথ, এফ-২২, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানসহ কার্গো ও জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান। এছাড়া গত মার্চে পেন্টাগন আরও তিনটি পৃথক সামরিক ইউনিট পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ছিল ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ও ৩১তম এমইইউ এবং ‘ইউএসএস বক্সার’ ও ১১তম এমইইউ, যা সাগরে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা যুক্ত করে। পাশাপাশি উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাশুট হামলাকারী সেনাও পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার সঙ্গে এখন নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা যুক্ত হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin