মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলার শিকার হওয়ার পরও নিজের জীবনের চেয়ে বিমানের ১৭০ জন যাত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। বর্তমান আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই পাইলট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সেই সংকটের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১৭০ জনই ছিলেন যাত্রী। বিমানটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ওমানি সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা চালান। তাকে ছুরিকাঘাত করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিমানটি দ্রুতগতিতে ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
ক্যাপ্টেন মাচ্ছার জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, যদি তিনি উঠে দাঁড়াতে না পারেন, তবে যাত্রীরা প্রাণ হারাবেন। ১৭ বছর ধরে উড্ডয়ন পেশায় থাকা এবং গত ১১ বছর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা তাকে সেই মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, এরপর যাত্রী ও ক্রুরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিকল্প ক্রুরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথোপকথনের সময় মাচ্ছার জানান, সংকটের ওই মুহূর্তে তিনি মানসিকভাবে শক্তি পেতে 'হনুমান চালিশা' পাঠ করছিলেন। তিনি বলেন, 'যখনই কোনো সমস্যায় পড়ি, আমি হনুমান চালিশা পাঠ করি।' প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাচ্ছার আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার এই সুযোগকে নিজের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আহত মাচ্ছারের বুক ও শরীরের ওপরের পেটে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সৌদি আরবের তাবুক থেকে আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এদিকে, হামলাকারী ওমানি সহকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়েছে এবং ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ২০২২ সালের জুন মাসে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে মাচ্ছার ১১ বছর ভারতের স্পাইসজেটে কাজ করেছেন।





