শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ছুটির বিষয়টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে কোন মাসে কত দিন টানা ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, তা প্রজ্ঞাপন জারি হলে স্পষ্ট হবে। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় এ রকম ছুটি আছে ১৪ দিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আবশ্যকতা রয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে এই অনুমোদন অপরিহার্য। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এটি একটি জাতীয় ছুটি হিসেবে গণ্য হবে, ফলে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসহ সব খাতের জন্যই এই ছুটি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপন জারির পর এই ছুটির সময় সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে।
ছুটির এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার পর সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে তা অনুসরণ করতে হবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এবং জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।
ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন, যা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হবে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে এবং পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি যোগ হলে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি নিশ্চিত হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ছুটি সর্বজনীন এবং ধর্মীয় বা জাতীয় উৎসব পালনের জন্য নির্ধারিত থাকে। অন্যদিকে, সরকার নির্বাহী আদেশে যে ছুটি ঘোষণা করে তা মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি অফিসগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য ধর্মীয় পর্ব অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে সাধারণ বা নির্বাহী ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ভোগ করতে পারেন।





