সাংবাদিক থেকে উগান্ডার তোরো রাজ্যের রাজা হলেন কিজানাঙ্গোমা

Published: September 30, 2026, 9:02 am

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাইক্রোফোন হাতে মানুষের গল্প শোনানো সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা এখন আর কেবল সংবাদের কর্মী নন, বরং উগান্ডার ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা। ৫৬ বছর বয়সে এসে তাঁর জীবনের মোড় এমনভাবে ঘুরল যে তিনি নিজেই এখন খবরের শিরোনাম। তাঁর নতুন পরিচয়—রাজা প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা নিয়াবোঙ্গো।

তোরো রাজ্যের সিংহাসন খালি হয়েছিল গত মাসে, যখন ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসার পর থেকে তিনি ‘বালক রাজা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে রাজপরিবারে শুরু হয় তীব্র দ্বন্দ্ব। সিংহাসনের দাবিদার হিসেবে একটি অপ্রকাশিত শিশুর নাম সামনে এলেও, রাজপরিবারের ২১ সদস্যের বাবিতো গোত্রের কমিটি কিজানাঙ্গোমাকে রাজা হিসেবে বেছে নেয়।

রাজা হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ জটিল। রাজপরিবারের রীতিনীতি অনুযায়ী, প্রয়াত রাজার স্বীকৃত ছেলে থাকলে তিনিই উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা। রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি দাবি করেন, তাঁর ছেলে ওয়ে একটি ইচ্ছাপত্রে ওই শিশুকে পরবর্তী রাজা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই শিশুকে কখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি এবং প্রয়াত রাজা ওয়ের বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও নেই। রানি কিজানাঙ্গোমাকে রাজা ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে এটিকে ‘দ্বিতীয় রাজা ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেন এবং এতে নিজের কষ্টের কথা জানান। তবে রাজপরিবারের উত্তরাধিকার কমিটি রানির দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সব রীতিনীতি মেনেই এই নির্বাচন হয়েছে।

তোরোর তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী চার্লস মওয়াঙ্গুহিয়া জানান, ওই শিশুকে কোথাও উপস্থাপন করা হয়নি বলেই ধীরে ধীরে এটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে যে রাজা ওয়ে কোনো পুত্র রেখে যাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিজানাঙ্গোমা ও প্রয়াত রাজা ওয়ে দুজনই তোরোর ১১তম রাজা রুকিডি তৃতীয়ের নাতি। তিনি ১৯২৮ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন। সেই হিসাবে কিজানাঙ্গোমা রাজবংশেরই মানুষ। তাঁর নামের অর্থ ‘যিনি রাজকীয় ঢাক নিয়ে আসেন’, যা দুই প্রজন্ম আগে তাঁর দাদা রাজা রুকিডি তৃতীয় রেখেছিলেন।

অভিষ>অভিষেক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মধ্যরাতে। কিজানাঙ্গোমাকে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছাতে হয়, যেখানে তাঁকে রাজা ঘোষণা করা হয়। ফোর্ট পোর্টাল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের কিদুকুরু গ্রামে তাঁর বেড়ে ওঠা। পরে পড়াশোনার জন্য গ্রাম ছাড়েন। উগান্ডা সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল স্যাম মায়াঞ্জা এবং প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি এই অভিষেককে সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি প্রেসিডেন্টের ছেলে ও সামরিক বাহিনীর প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবাও তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন।

১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া কিজানাঙ্গোমা ১৯৯৯ সালে মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। দুই দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। নতুন রাজা জানিয়েছেন, সাংবাদিক হিসেবে সাধারণ মানুষের সাথে গড়ে তোলা যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা তিনি রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চান। তাঁর মা আসিমওয়ে ইউস্তা কিজানাঙ্গোমা ছেলের এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, কিজানাঙ্গোমা শান্ত স্বভাবের এবং তিনি ঐতিহ্যের শিক্ষা নিয়েই বড় হয়েছেন।

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যের আওতাতেই রাজধানী কাম্পালা। ১৯৬৭ সালে এসব রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি সরকার এই রাজতন্ত্রগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। নতুন রাজা কিজানাঙ্গোমা রাজপ্রাসাদ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo