বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করা হলে সাতদিনের মধ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি খুলে দেবেন।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রতিনিধি আরাঘচি জানান, জুনে ইসলামাবাদে যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছিল, এই নতুন প্রস্তাবটি মূলত সেই চুক্তিরই অংশ। তিনি বলেন, “যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে। সাতদিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। এখন এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে যে তারা এই প্রস্তাব নিয়ে কী পদক্ষেপ নেবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ হতো। ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়।
এদিকে, ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, যার মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ওপর এখন বড় ধরনের চাপ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ইরানের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করে কি না, যার ওপর লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যৎ তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নির্ভর করছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আরাঘচি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন ‘যদি প্রয়োজনীয় শর্ত মানা হয়’ তাহলে চুক্তিটি করা সম্ভব। আর নতুন প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে তা জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতেই আছে বলে জানান তিনি।





