জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও সমুন্নত করবে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে দেশের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং একই সঙ্গে গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এই ভাষণে প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই ‘থ্রি আর’ কৌশলের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
অভিনন্দনবার্তায় আরও বলা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিকতা, ফিলিস্তিন ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট তীব্র চাপ, জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির সঠিক চিত্রও তাঁর ভাষণে ফুটে উঠেছে।
জাতিসংঘকে ‘একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে দেখার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংঘাতময় বিশ্বে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বক্তব্যে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়াকে একটি গৌরবময় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং তাঁর নিরাপদ ও সফল সফর কামনা করেন।
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২১আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪০





