নিরাপত্তা পরিষদে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলবেন আলটম্যান ও অ্যামোডেই

Published: September 23, 2026, 9:19 am

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম আলটম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও অ্যামোডেই। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লেমঁ দেলাং এবং ইউনিভার্সিতে দ্য মন্ট্রিয়ালের অধ্যাপক ইয়োশুয়া বেংজিও অংশ নেবেন। অধ্যাপক বেংজিও জাতিসংঘের এআই-বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বৈঠকের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

বিশ্বজুড়ে যখন উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষকদের একটি বড় অংশ সতর্ক করে আসছেন যে, অতি উন্নত এআই মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি কেমন হওয়া উচিত এবং এর সম্ভাব্য বিপদ কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের মধ্যেও বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ে তৈরি হওয়া এসব আশঙ্কাকে বারবার ‘হোক্স’ বা ‘স্ক্যাম’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও তিনি এই নতুন প্রযুক্তির বিকাশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, শিল্পবিপ্লব বা ইন্টারনেটের চেয়েও বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম এই প্রযুক্তির পথ তিনি রুদ্ধ করতে চান না। অথচ এর বিপরীতে ওপেনএআইয়ের আলটম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের অ্যামোডেই উন্নত এআই মডেলের বিকাশের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

এআই-এর নিয়ন্ত্রণহীন সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সম্প্রতি আরও উসকে দিয়েছে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। গত জুলাই মাসে ওপেনএআই জানায়, তাদের কিছু এআই মডেল পরীক্ষামূলক পরিবেশের সীমানা পেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাগিং ফেসে থাকা একটি উন্মুক্ত-সোর্স ডেভেলপার প্ল্যাটফর্মে সাইবার হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া গত মার্চ মাস থেকে তাদের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলোতে আরও কিছু উদ্বেগজনক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

একইভাবে অ্যানথ্রপিকও তাদের এআই মডেলকে ঘিরে বেশ কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা জনিত ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি গুগলও স্বীকার করেছে যে, তাদের তৈরি জেমিনি মডেল অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ব্যবস্থায় ঢুকে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে। এসব ঘটনা এআই-এর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে এআই সংক্রান্ত বিতর্ক এখন আর শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতির গতিসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম এই দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিকে কীভাবে নিরাপদ রাখা সম্ভব? আর এই নিরাপত্তার নিয়মাবলীই বা কে নির্ধারণ করবে—প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার, বিজ্ঞানী নাকি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা? জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকটিই হতে পারে সেই জটিল প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin