ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুমকির মধ্যেই নতুন আলোচনার আভাস ট্রাম্পের

Published: September 23, 2026, 5:15 am

মাসের পর মাস ধরে চলা কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই আলোচনাকে ট্রাম্প ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন এবং খুব শিগগিরই পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন।

বৈঠকের খবর জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে বেশ আক্রমণাত্মক সুর বজায় রাখেন। তিনি বলেন, তাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবেন যা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে এবং শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে, নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে দ্রুত 'ধূলিসাৎ' করে দেবেন যাতে তারা আর কোনো দেশ বা মানুষকে ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? ট্রাম্পের এই ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধি দলের একজন ছাড়া বাকি সবাই সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (ওজওই) সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে তেহরান প্রধানত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিনিময়ে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সমস্ত অর্থ ফেরত এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে কাজ করছেন এবং এই আলোচনার সূচনা ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক।

গত জুনে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তেহরানের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর, মঙ্গলবারের এই বৈঠকটিই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন এই যুদ্ধ শুরু করে, তখন ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। গত এপ্রিলে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্রুতই ভেঙে যায় এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে ইরান অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দাবি করলেও ট্রাম্প এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। যদিও তিনি দাবি করেছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া এই সফরে ট্রাম্প ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশের উপস্থিতি রোধ করবে। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদী ও চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হতে যাচ্ছে।

তবে জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের এই বৈঠকটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে ট্রাম্প এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি—অথচ একসময় তিনি দাবি করেছিলেন মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin