ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নাকি নিশ্চিহ্ন করা, বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

Published: September 23, 2026, 4:22 am

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথে এগোনো হবে নাকি দেশটিতে সামরিক হামলা চালানো হবে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার পথটিও তার সামনে খোলা রয়েছে। তার কথায়, হয় ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা হবে যা তাদের আগের চেয়ে শক্তিশালী করবে, নতুবা তিনি দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধিদলের মাত্র একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে একই দিনে জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকটি ছিল খুবই ফলপ্রসূ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং তারা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন। তার দাবি, এই সংঘাত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে এবং ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠার নীতি কার্যকর হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমালোচনা করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘বৈশ্বিক সরকার’ মেনে নেবে না এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রযুক্তিটি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।

ইউএনজিএ-র ফাঁকে ট্রাম্প ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার বাড়াবে। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেছেন। ভাষণের শেষদিকে কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সমালোচনা করলে কিউবার প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy