ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর অনুষ্ঠিত প্রথম স্টেট দুমা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনপন্থী দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত প্রায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফলাফলে এই বড় জয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচনের তিন দিনব্যাপী প্রক্রিয়াটি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এল্লা পামফিলোভা জানান, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের স্টেট দুমায় দলটি প্রায় ৮০ শতাংশ বা ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা ২০১৬ সালের ৩৪৩ আসনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই জয়ের ফলে পার্লামেন্টে দলটি সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে, যার মাধ্যমে অন্য দলের সমর্থন ছাড়াই আইন পাস ও সংবিধান সংশোধন সম্ভব হবে।
নির্বাচনে অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, কট্টর জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিউ পিপল পার্টি ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাস্ট রাশিয়া পার্টিও ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। যদিও নভগোরোদ অঞ্চলে দলটি ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করার দাবি করেছে।
নির্বাচনে ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা একটি রেকর্ড উপস্থিতি। নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ অব্যাহত ছিল। সমালোচকরা রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধিতার সুযোগ সীমিত থাকার অভিযোগ তুললেও, পামফিলোভা এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভ প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মস্কোর বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি মূল্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
তবে মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নভগোরোদ অঞ্চলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দলটি ৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে হচ্ছে।





