যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ হ্রাস করে এবং তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, তবে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দিতে রাজি আছে ইরান। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ জন্য ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায় সম্মত হতে হবে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদলকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তার তথ্যমতে, দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা অবসানের চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতিতে ফেরার একটি দারুণ সুযোগ হলেও ওয়াশিংটনকে আগে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করে তেহরান। মার্কিন প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানও আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।
এদিকে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, আঞ্চলিক কিছু দেশের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তেহরান কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা বিবেচনা ছাড়াই কঠোর পাল্টা জবাব দেবে।





