ড. ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু, মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতির

Published: October 14, 2026, 5:08 am

যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, এটি কেবল শুরু। নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনে আয়োজিত এক টকশোতে তিনি দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মঙ্গল না চাওয়া হবে, ততক্ষণ সারা পৃথিবীতেই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ড. ইউনূসের আজকের এই পরিস্থিতির কারণ তার নোবেল লরিয়েট পরিচয় নয়, বরং গত দুই বছরে তার গৃহীত কর্মকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস অসাংবিধানিক ও অন্যায়ভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছেন। সিদ্দিকুর রহমানের মতে, ড. ইউনূসের নির্দেশে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার শাসনামলে লক্ষাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে কারাবন্দি রাখা এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার মতো কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করার সুযোগ নেই, কারণ এই ঘটনাগুলো ড. ইউনূসের নিজের কৃতকর্মের বহিঃপ্রকাশ। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশে কথা বলার সুযোগ না থাকায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তারা শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাদের জানাজা করতে না দেওয়া এবং দলীয় নেত্রীর ফাঁসির হুকুমের মতো বিষয়গুলো নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের ডিকশনারিতে ড. ইউনূসকে ভালো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই, যেখানেই তাকে পাওয়া যাবে সেখানেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূসকে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে, যেমন পুলিশ হত্যা ও নেতাকর্মীদের বন্দি রাখার বিষয়ে, তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হলে উনাকে চাইতে হবে, আমরা চাইবো কেন? আমরা কী করেছি?’ আওয়ামী লীগ কি কোনো অপরাধ করেননি—জবাবে বলেন, ‘উনি তো বলেছেন ৫ই আগস্ট পর্যন্ত যাদের হত্যা করা হয়েছিল, তাদের কারা হত্যা করেছে, এটা কমিশন করে, এটা তো বারবার বলার তো প্রয়োজন নেই।’ সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, এটি কোনো রিভেঞ্জ বা প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজনদের রাগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হবে এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির শেষ হবে না। দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ও ড. ইউনূসের জন্য অশুভ বলে মন্তব্য করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin