ইসলামি শরিয়তে বদনজরের প্রভাবকে একটি বাস্তব বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি মূলত কোনো ব্যক্তির হিংসাত্মক কুদৃষ্টির কুফল। যখন আল্লাহর স্মরণ ছাড়া গাফেল অবস্থায় কোনো জিনিসের প্রতি তীক্ষ্ণ বা কুদৃষ্টি দেওয়া হয়, তখন তার ক্ষতিকর প্রভাব মানুষ কিংবা অন্যান্য বস্তুতে পরিলক্ষিত হতে পারে। যাকে বদনজর করা হয়, তার ওপর এটি বিষাক্ত তিরের মতো কাজ করে। তবে এটি সবসময় কার্যকর হয় না; যার ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে, সে যদি প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় থাকে কেবল তখনই কুদৃষ্টি ক্রিয়াশীল হয়। পক্ষান্তরে, যথাযথ সতর্কতায় থাকলে এর প্রভাব পড়ার সুযোগ থাকে না।
কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য বর্ণনায় বদনজরের সত্যতা প্রমাণিত। ইয়াকুব (আ.) তার সন্তানদের কুদৃষ্টি ও হিংসার আশঙ্কায় একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন, যা সুরা ইউসুফের ৬৭-৬৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বদনজরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, 'বদনজরের প্রভাব সত্য।' (বোখারি : ৫৩২৯; মুসলিম : ৫৫১৩)। এছাড়া আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন (ইবনে মাজাহ : ৩৫০৮)। তকদিরের ওপরও বদনজরের প্রভাবের সক্ষমতা সম্পর্কে উবাইদ ইবনে রিফাআ আজ-জুরাকি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) মন্তব্য করেছেন যে, কোনো জিনিস যদি তকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজর অবশ্যই তা করতে পারত (তিরমিজি : ২০৫৯)।
বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর (তিরমিজি : ৩৫৭৫)। এছাড়া বদনজর থেকে বাঁচতে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে: 'বিসমিল্লা হিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন, ফিলআরদি ওয়ালা-ফিসসামায়ি, ওয়া হুও য়াস সামিউল আলিম।' (তিরমিজি : ৩৩৩৫)। এই দোয়াগুলো পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে বা হাত মুছে নিলে আল্লাহর রহমতে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে ফুঁ দিয়ে দোয়া করতেন। সেই দোয়াটি হলো: 'আউজি বিকালিমা-তিল্লাহিত্ তা-ম্মাহ। মিন কুল্লি শাইতানিন-ওয়া হাম্মাহ। ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।' (বোখারি : ৩১৯১)। নিয়মিত এসব আমলের মাধ্যমে বদনজরের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। আল্লাহ আমাদেরকে বদনজর থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।





