দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপেয় ও সরবরাহকৃত পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভ্যাপসা গরমে পানির অভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। কোথাও কোথাও পানির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। আবার কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানির তীব্র সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে গত রোববার শিমরাইল ও চাষাড়ামুখী সড়ক প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরী বাড়ি এলাকার পানির পাম্পটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে পুরো এলাকায় তীব্র পানির সংকট তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়া বাসিন্দারা পাম্পটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কয়েক দিন ধরে বিভিন্নভাবে আন্দোলন করছেন।
এদিকে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামের ৩০টি পরিবার গত ২০ বছর ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। গ্রামের বাসিন্দা লোকমান মিয়া জানান, প্রতিদিন এক কলসি পানির জন্য তাদের এক কিলোমিটার দূরে বাহাদুরপুর গ্রামে যেতে হয়। বর্ষাকালে নৌকায় এবং শুষ্ক মৌসুমে হাওরের কাদামাটি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। গ্রামে দ্রুত নলকূপ স্থাপনের দাবি জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ওই এলাকার পানির সংকট সরেজমিনে যাচাই করে বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভাতেও সাপ্লাই পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ প্রতিষ্ঠিত ৩ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার জনসংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৭৮২ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলেই কলাপাড়া পৌরসভার পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী। এছাড়া কয়েকটি পাম্প থেকে পানির সঙ্গে বালু ওঠার অভিযোগও রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই পানির সমস্যার সমাধান হবে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুরে জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই চলছে পাঠদান। প্রিপেইড মিটারে টাকা না থাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে ফ্যানের বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় তৃষ্ণা মেটাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তসলিম হোসেন এ বিষয়ে জানান, এমন অবহেলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এখনই খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





