হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি করে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। এর ফলে আখতারুজ্জামানের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর আখতারুজ্জামান হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত রোববার হাইকোর্ট রুলসহ তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। হাইকোর্টের সেই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে বিষয়টি চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন।
গত ১ অক্টোবর রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর পরদিন ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করার পর তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এলাকার বাসিন্দা আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে একাদশ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। একসময় জেলা বিএনপির সভাপতি থাকা আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।





