আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আদালতটির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওয়াশিংটন থেকে এই বিধিনিষেধের ঘোষণা এলো।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে মার্কিন কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিসির লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই কোনো আন্তর্জাতিক আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না এবং সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সার্বিক কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি তাদের ‘অব্যাহত ও অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্বের আটটি প্রভাবশালী দেশ। যৌথ অবস্থান জানিয়ে আইসিসির পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আদালতটি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার বিচারকার্য পরিচালনা করে থাকে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির বিরোধিতা করে আসছে এবং এর আগেও আদালতটির প্রসিকিউটর ও বিচারকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল আইসিসি।





