জাতিসংঘে মহামারি মোকাবিলায় শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ার আহ্বান বাংলাদেশের

Published: September 26, 2026, 2:57 am

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৪ (26 September 2026, 07:54)

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় টেকসই অর্থায়ন এবং একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা’ শীর্ষক এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি তুলে ধরেন তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি মহামারি প্রস্তুতিকে কেবল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সাময়িক ব্যয় হিসেবে না দেখে, এটিকে মানবনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মহামারি প্রস্তুতির সফল বাস্তবায়নে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাপক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং কমিউনিটির মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক সেবা শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোগ নজরদারি ও ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ স্বাস্থ্য জনবল তৈরিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, একটি সমতাভিত্তিক, কার্যকর ও সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। বৈশ্বিক মহামারি প্রতিরোধে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ড. হায়দার জানান, সমতা, সংহতি, অভিন্ন দায়িত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভিত্তিতে একটি বৈশ্বিক মহামারি প্রস্তুতি কাঠামো গড়ে তুলতে বাংলাদেশ জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

‘সমতা ও সংহতির নীতির ভিত্তিতে মহামারি ও জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক ও আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যের শেষভাগে ড. হায়দার সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী কোনো মহামারি থেকে কোনো দেশই এককভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে না। একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে, যার মাধ্যমে বিশ্বকে পরবর্তী যেকোনো স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh