সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউ ইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরেন। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই আশা করা হচ্ছে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করবে।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ও বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তার পাশে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের একটি জটিল অংশে অবস্থিত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সংহত করতে সহযোগিতা করতে চায় এবং কোনো বৃহৎ শক্তির মধ্যে বেছে নেয়ার পরিবর্তে দেশগুলোর জন্য একটি বিকল্প হতে চায়। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।





