মিরপুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে খোলা আকাশের নিচে টিকাদান

Published: September 26, 2026, 8:13 am

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা মা ও শিশুরা। ভবনটি ধ্বংস হওয়ার এক দিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে খোলা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ীভাবে শিশুদের হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে কয়েকটি টেবিল ও চেয়ার বসিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তীব্র গরমে শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মায়েদের। টিকাদান কর্মসূচিতে আসা আফসানা আক্তার নামের এক মা জানান, তিনি তার ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন। আগে সেন্টারের ভেতরে বসে টিকা দেওয়া যেত, কিন্তু এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় তিনি বেশ অবাক হয়েছেন। আয়েশা বেগম নামের আরেক মা জানান, তার তিন মাস বয়সী মেয়ের জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, আজ প্রায় ১০টির বেশি শিশু টিকা নিতে এসেছে এবং দিনভর এই সংখ্যা ১০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, সেন্টারটি ভেঙে ফেলায় এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে চারজন চিকিৎসকসহ প্রায় ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে শুধুমাত্র টিকাদান কার্যক্রম সীমিত আকারে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে বা অন্য কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা ও নগদ টাকা লুট করে। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসছিল। নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশি কপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo