রুশ হামলায় নিহত ৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

Published: October 9, 2026, 5:03 am

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার চালানো সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত দুই দিনে অন্তত ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২১৫ জনের বেশি মানুষ। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা না দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহরে রাশিয়ার এক বিমান হামলায় যাত্রীবাহী দুটি বাস সরাসরি আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত হয়। এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ২০ জন গুরুতর আহত হন। এই নৃশংস ঘটনার পরই জেলেনস্কির পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। স্থানীয় গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন অভিযোগ করেছেন, রুশ বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগের দিন প্রিলুকি শহরের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২২ জন নিহত হন। এছাড়া রাজধানী কিয়েভসহ দেশের অন্যান্য শহরেও ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে জেলেনস্কি দেশজুড়ে দুই দিনে ৭৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হামলার পর দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। এর আগে রুবিও দাবি করেছিলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে একটি 'বিপজ্জনক অচলাবস্থায়' এসে থমকে গেছে। রুবিওর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জেলেনস্কি বলেন, এখানে কোনো অচলাবস্থা নেই। এটি আসলে কিয়েভকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা মস্কোর সঙ্গে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে মার্কিন বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন; অন্যদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থার অযুহাত দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এমন আচরণকে চরম দ্বিমুখী নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করে ক্ষোভ উগরে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin