ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজনে তুরস্ক পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
হাকান ফিদান বলেন, ইয়েমেনের হুতিদের চলমান হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। গত মাসে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক জোটের অপর দেশটিকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই ইস্যুতে তুরস্ক দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়সহ নির্দিষ্ট সামরিক প্রয়োজনে সহায়তা করতে তুরস্কের আপত্তি নেই।
মক্কা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা বাকি দেশগুলোর ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে এই সহায়তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তুরস্ক জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর দেশ হিসেবে তাদের এই চুক্তিটি অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি বিদ্যমান কোনো জোটকে প্রতিস্থাপনের জন্য নয়।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতিরা জুলাই মাসে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে। এই হামলাগুলো সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য সৌদির আবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হাকান ফিদান মন্তব্য করেন যে, সৌদি আরব এই সংঘাতের অংশ হতে না চাওয়া সত্ত্বেও তাদের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। যুদ্ধ অবসানের জন্য সব পক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, শনিবার ইয়েমেনের হুতিরা রিয়াদের সংবেদনশীল স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে, যার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে আগুনের কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল। পাকিস্তান জানিয়েছে, মক্কা চুক্তির অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা না হলেও 'সময় এলে' তারা ব্যবস্থা নেবে।





