প্লাস্টিক দূষণ রোধে সুন্দরবন সুরক্ষার অঙ্গীকার শ্যামনগরে

Published: September 20, 2026, 11:16 am

‘প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস ও বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন বিষয়ক একটি শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্যামনগর সোনার বাংলা মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর আয়োজনে এই সভাটি সম্পন্ন হয়।

সভায় সুন্দরবন রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য না ফেলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে রূপান্তরের ট্রেনিং ফ্যাসিলিটেটর খালিদ লামি প্লাস্টিক, পলিথিন ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যের নেতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো তুলে ধরেন।

রূপান্তরের সুন্দরবন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ভেটখালী এ. করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এবং নীলডুমুর ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই খালিদ। এ ছাড়াও সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক রঞ্জিত কুমার বর্মন, ‘ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন ফোরাম’-এর আহ্বায়ক মুন্তাকিমুল ইসলাম, বারাসিক প্রতিনিধি মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ-তরুণী, সিপিজি সদস্য এবং এনজিওকর্মীরা সভায় বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। নদী, খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেললে তা দীর্ঘ সময় পরিবেশে টিকে থাকে, যা জলজ প্রাণী, মাছ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে। কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, ব্যবসায়ী, জেলে ও বনজীবীদের পাশাপাশি তরুণ সমাজকেও সচেতন হতে হবে এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবন সুরক্ষায় বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin