তুরস্কে বাস ও ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭

Published: October 12, 2026, 5:18 am

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের মানিসা প্রদেশে একটি পর্যটকবাহী বাসের সঙ্গে কাঠের তক্তাবোঝাই ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার পর ইজমিরের নিকটবর্তী গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও ২৭ জন যাত্রী আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও এএফপি নিশ্চিত করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বাসটির পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক পাশে উল্টে পড়ে আছে এবং ট্রাকটিও বিপরীত দিকে উল্টে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি), পুলিশ, সামরিক বাহিনী, দমকল বিভাগ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমন্বিত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান জানান, বাসটিতে ৩৪ জন যাত্রী ও তিনজন কর্মী ছিলেন এবং ট্রাকটিতে কেবল চালক ছিলেন। আহত ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জনকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, নয়জনকে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং একজনকে গুরুতর আহত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের সবাই তুর্কি নাগরিক। তবে দুর্ঘটনায় কোনো বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গভর্নর ওজকান জানান, স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালিত হবে। এই দুর্ঘটনা সড়ক চলাচলের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার গুরুত্বকে বেদনাদায়কভাবে মনে করিয়ে দিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেমে দুই চালককেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাসের চালককে আটক করে পুলিশ, পাশাপাশি ট্রাকচালকেও আটক করা হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম হুররিয়েতের বরাতে এএফপি জানায়, ট্রাকটি ভুল পাশ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে, তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছর তুরস্কে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনা সংঘটিত হলো। এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে দিয়ারবাকির প্রদেশের লিচে জেলায় একটি বিয়ের বাগদান অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১৮ জন আরোহী নিয়ে একটি মিনিবাস খাদে পড়ে যায়। দিয়ারবাকিরের গভর্নর মুরাত জোরলুওলুর তথ্যমতে, মিনিবাসটির চাকা ফেটে যাওয়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়েছিল। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুজন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনসহ মোট সাতজন প্রাণ হারান এবং নয়জন আহত হন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy