ট্রাম্প-শি বৈঠক: উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা

Published: September 25, 2026, 4:53 am

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শি জিনপিংয়ের তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বৈঠককে ট্রাম্প ‘দারুণ বৈঠক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ই সংলাপ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই শির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যা পারস্পরিক সম্মান ও দুই দেশের জনগণের স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে।

বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই নেতা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর চীনা পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। শি জিনপিং আলোচনায় ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা উদীয়মান ও প্রভাবশালী শক্তির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিযোগিতা এমন হওয়া উচিত নয় যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে হারানোর চেষ্টা করবে, বরং একে অপরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘স্বাস্থ্যকর’ প্রতিযোগিতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

ইরান ইস্যুতে আলোচনার অগ্রগতি তেমন দেখা যায়নি। ট্রাম্প চীনের প্রতি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ব্যাপারে সহযোগিতার আহ্বান জানালেও, বেইজিং এতে সরাসরি জড়াতে অনাগ্রহী। শি অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুটি বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। শি ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ও বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে মে মাসে ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিতের কথা বলেছিলেন এবং অস্ত্র বিক্রয়কে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

শি জিনপিংয়ের এই সফর ও হোয়াইট হাউসের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন এই আয়োজনের সমালোচনা করেছেন। তবে রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল মনে করেন, সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে তাইওয়ান নিয়ে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বড় একটি অংশ চীনকে তাইওয়ান দখল থেকে ঠেকানোর পক্ষে মত দিলেও, সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে।

জরিপে চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা নাকি চীনকে তাইওয়ান দখল করা থেকে ঠেকানো কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, এ প্রশ্নে ৩৬ শতাংশ ও ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা যথাক্রমে দুই অবস্থানের পক্ষে মত দেন।তবে জরিপে ৪০ শতাংশেরও কম উত্তরদাতা বলেছেন, চীন তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নিলে তা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য প্র

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy