দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

Published: September 27, 2026, 1:50 pm

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে সংঘটিত নির্লজ্জ সহিংস লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হওয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে সংস্থাটি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্ধশত বছর ধরে গরীব অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান শত শত মানুষের সামনে ধ্বংস করার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ন চোরতন্ত্রের পতনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনের জনরায়ে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীদের এই কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে? তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ সাধারণ মানুষের মানসপটে এখনো সতেজ, এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি সম্পর্কে তারা ভেবে দেখছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, আগস্ট ২০২৪ থেকে দেশজুড়ে ঢাকার সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল সংযোগ, ইন্টারনেট ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হাতবদলের যে মহোৎসব চলছে, তা বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বেপরোয়া আচরণের বহিঃপ্রকাশ। সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার লেনদেন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অধিকতর স্বাভাবিকতা লাভ করেছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।

সংস্থাটির মতে, দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা করতে না পারলে এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে শক্ত হাতে দমন করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। টিআইবি অনতিবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৪আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৪

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh