ঢাকার আশুলিয়ায় ১৯ বছর আগে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা ও পিতৃহারা এতিম ছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন রেজাউল। রক্সি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রেজাউল ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায়, ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রেজাউল রক্সির বাড়িতে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে রক্সির মাথার খুলি তিন টুকরো হয়ে মগজ বেরিয়ে আসে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই রক্সির খালাতো ভাই নুরুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আ. আলিম তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৪ জুলাই রেজাউলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।





