দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীনদের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

Published: September 27, 2026, 12:10 pm

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট ও ভাঙচুরের পাশাপাশি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় তছনছ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বড় ধরনের অশনিসংকেত।

টিআইবি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ যোগাযোগ বা সম্পৃক্ততা থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের অন্যতম প্রধান এই political দলটি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৬ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর, ১৯৭৭ সালে শাসনব্যবস্থা বেসামরিকীকরণের লক্ষ্যে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগ দল) গঠন করেন, যার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। এরপর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগ দল বিলুপ্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি গঠিত হয় এবং জিয়াউর রহমান এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ডান, বাম ও মধ্যপন্থীদের এক মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে এই দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হওয়ার পর দলের সভাপতি হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার।

পরবর্তীতে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে সাতদলীয় জোট অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। এর মাঝে ১৯৯৬ সালে একটি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমেও দলটি স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল। এ ছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে বিএনপি জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনটি বর্জন করেছিল দলটি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁরই নেতৃত্বে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি পুনরায় সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo