কারিগরি শিক্ষায় আসন সংকট দূর করতে কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ জরুরি

Published: October 9, 2026, 5:15 am

দেশে শিল্প, নির্মাণ, কৃষি, টেক্সটাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি খাতেই দক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিদেশের শ্রমবাজারেও দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকার কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশের ৮৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি পলিটেকনিকগুলোতে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আসনের বিপরীতে মাত্র ৩০ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ফলে অধিকাংশ আসনই খালি পড়ে আছে।

শিক্ষার্থীরা কেন কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে না, তার পেছনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি বড় কারণ। এখনো অনেক পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় দ্বিতীয় সারির শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে। তবে শুধু সামাজিক মানসিকতাকে দায়ী করলে সমস্যার মূল কারণ আড়াল হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা মূলত পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা খোঁজে। ডিপ্লোমা শেষ করার পর চাকরি না পাওয়া, কম বেতনে কাজ করা অথবা চাকরিতে প্রবেশের পর নতুন করে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হওয়া কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষার মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্পের চাহিদার অসামঞ্জস্য আরেকটি বড় সমস্যা। অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে, আবার কোথাও পুরনো প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে সার্টিফিকেট পেলেও শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। কেবল প্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়িয়ে কারিগরি শিক্ষার প্রসার সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় কারিগরি শিক্ষাকে সরাসরি বাস্তব কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। আগামী পাঁচ বা দশ বছরে কোন খাতে কেমন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে, তা বিশ্লেষণ করে শিক্ষাক্রম ও আসন নির্ধারণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। যেখানে শিক্ষার্থী, মানসম্মত শিক্ষক বা ল্যাব নেই, সেখানে অনুমোদন টিকিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে শুধু অনুমোদন বাতিলই সমাধান নয়; কেন শিক্ষার্থী আসছে না তা চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করতে ডিপ্লোমা শেষে চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথ স্পষ্ট করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে বোঝাতে হবে যে, কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি সনদ নয়, বরং দক্ষতা অর্জন ও কর্মজীবনে প্রবেশের একটি বাস্তব পথ। বিদ্যমান ব্যবস্থার গুণগত সংস্কারই দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy