বোনকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা শরিয়ত লঙ্ঘন ও জাহেলি প্রথা

Published: October 5, 2026, 3:21 am

সমাজে বোনদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার একটি জঘন্য ও অমানবিক প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় কোনো বোন নিজের প্রয়োজনে বা বিপদে পড়ে তার ন্যায্য মিরাসের হিস্যা দাবি করলে তাকে তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয় এবং সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। এমনকি ভাইদের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্পদ বুঝে নিলে ভবিষ্যতে তার আর কোনো আশ্রয় বা সহায়তার অধিকার থাকে না বলে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে নিজের ভাইদের কাছেই বোনের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর মতো দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এই ধরনের আচরণ মূলত ইসলামের আগের অন্ধকার বা জাহেলি যুগের চরম বৈষম্যমূলক ও অনৈতিক প্রথারই প্রতিফলন। ইসলামে এ ধরনের অন্যায়কে কঠোরভাবে নিন্দা জানানো হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকারের বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। তাই বোনকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কেবল আল্লাহর শরিয়ত লঙ্ঘনই নয়, বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো এক মারাত্মক অপরাধ।

অনেকে মনে করেন, বোনদের কেবল খোঁজখবর নেওয়া বা তাদের পাশে দাঁড়ালেই ভাইয়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। তবে এটি একটি ভুল ধারণা। ইসলাম অনুযায়ী, বোনের হক তখনই আদায় হবে যখন তার শরিয়তসম্মত প্রাপ্য মিরাস বা উত্তরাধিকারের অংশ সম্পূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। মিরাস বুঝিয়ে দেওয়ার পর সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর রাখা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং স্নেহ-ভালোবাসা প্রদর্শন করা অতিরিক্ত সওয়াব বা নেকির কাজ। কিন্তু প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে কেবল খোঁজখবর নেওয়া এক ধরনের প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বোনদের মিরাস থেকে বঞ্চিত করার এই অমানবিক প্রথা বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি যেমন আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার শামিল, তেমনি পারিবারিক বন্ধনকেও ছিন্ন করে। এই প্রথা সমাজে পারস্পরিক বিভেদ তৈরি করে, আস্থা নষ্ট করে এবং শ্রদ্ধাবোধ কমিয়ে দেয়। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এই জাহেলি প্রথা পরিহার করে বোনদের প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া প্রতিটি মুসলিমের ঈমানের দাবি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh