বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ: ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

Published: October 5, 2026, 4:04 am

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—'স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স'। এ উপলক্ষে আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় উৎসব ও 'গুণী শিক্ষক সম্মাননা' অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে এই 'গুণী শিক্ষক সম্মাননা' প্রদান করা হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষক পাবেন নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই এবার সম্মাননার পরিধি পূর্বের ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর (স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যোগ্যদের বাছাই করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ১০০ জন গুণী শিক্ষকের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন, কলেজে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, মেডিকেল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫ জন রয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পৃথক সার্চ কমিটির তৈরি করা প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে।

সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বিগত আমলে জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি ধারাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১০০ জন শিক্ষককে মূল্যায়নের আওতায় এনেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে তোলেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুবিধা নিশ্চিত করে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয় এবং ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে এর নিয়মিত উদযাপন শুরু হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh