সালমান মুক্তাদিরের ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে আপত্তি শেখ নূর ইসলামের, টসবন্ডের মালিকানা অস্বীকার

Published: October 3, 2026, 3:17 pm

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত খবরে নিজেকে ‘সালমানের শ্বশুর’ হিসেবে উপস্থাপন করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম। তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে তিনি বা তাঁর পরিবার কেউই মেনে নেননি। একই সঙ্গে সম্প্রতি সিলগালা হওয়া ‘টসবন্ড’ নামক ওয়্যারহাউসের মালিকানা অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই।

শনিবার ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের স্বাক্ষরে এই লিখিত প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা পাঠানো হয়। প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সালমানের ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক বা অন্য যেকোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের নাম জড়িয়ে তাঁকে ‘সালমানের শ্বশুর’ পরিচয়ে সংবাদ, শিরোনাম, ভিডিও, থাম্বনেইল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উপস্থাপন করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অসত্য এবং অশোভন।

গুলশানের টসবন্ড ওয়্যারহাউস সিলগালা করার প্রসঙ্গে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এর কোনো ঘটনা, কার্যক্রম বা অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ত করা প্রকৃত তথ্যের পরিপন্থী। নিজের ব্যবসা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে শেখ নূর ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ছাড়া তাঁর অন্য কোনো মদের বার, ওয়্যারহাউস কিংবা ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড হাউস নেই। এর বাইরে দেশে তাঁর কেবল রেস্তোরাঁ ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা রয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, শেখ নূর ইসলাম দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন এবং তিনি সে দেশের নাগরিক। তাঁর দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও বর্ষা ইসলামও জন্মসূত্রে কানাডার নাগরিক। কানাডায় নিজের বৈধ ব্যবসার আয় থেকে নিয়ম মেনে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় পাঠিয়ে তিনি এ দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করছেন বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নেতৃত্বে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল গুলশানের টসবন্ড প্রাইভেট লিমিটেড নামের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করে দেয়। পরদিন শুক্রবার ডিএনসির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। ওই দিন ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানিয়েছিলেন, ওয়্যারহাউসটির মালিক নূর ইসলাম। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনে মালিক হিসেবে নূর ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন শেখ নূর ইসলামের পক্ষ থেকে সেই মালিকানার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হলো।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo