ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলে লোহিত সাগরীয় অঞ্চলটিতে সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দ্বীপ ও বন্দর শহর মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের সামরিক শক্তি বাড়াতে দেশটিকে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের বড় ধরনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। এছাড়া প্রদেশের আল-ধিকরা, আল-দামনা ও আল-রাহিদা এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন হুতি যোদ্ধা এবং হুতিদের পাল্টা হামলায় ২৩ জন সরকারি সেনা নিহত হন।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব মতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশের ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ইয়েমেনি এডেন উপসাগর পাড়ি দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিব রনিয়া আল-মাশাত জানান, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আরব দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা তাদের মোট জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ।
বর্তমানে ইয়েমেনে দুই পক্ষের সমান্তরাল শাসন চলছে। হুতিরা সম্প্রতি সরকারি বাহিনীর হাত থেকে মাইয়ুন দ্বীপ, হানিশ দ্বীপ, বন্দর শহর মোখা এবং তাইজ প্রদেশের কিছু অংশ দখল করে পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যদিও সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে। এই সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি বলেন, সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার পর তাঁরা সরাসরি লড়াইয়ে জড়িয়েছেন এবং সৌদি আরব মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জায়নবাদীদের হয়ে এই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
হুতিদের ঠেকাতে সৌদি আরব মিত্রদের সহায়তা চাইলে প্রথমে সরাসরি হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানালেও এখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদির কাছে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠিয়েছে। গত বুধবার হুতিরা সৌদির একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এদিকে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরব নিউজকে জানিয়েছেন, তাঁরা রিয়াদকে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে, চীনের কাছে সৌদির অনুরোধের প্রেক্ষিতে বেইজিং তেহরানকে হুতিদের লাগাম টানতে আহ্বান জানিয়েছে, তবে ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় বেইজিংয়ের পক্ষে তেহরানকে কতটা চাপ দেওয়া সম্ভব হবে তা নিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।





