দিল্লিতে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যা, দেহ বিকৃত করে খেল কুকুর

Published: September 18, 2026, 7:58 pm

ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কয়েক দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর কুশাক রোডের জয়পাল রানার মাঠের কাছে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠে কুকুরকে মরদেহের ওপর আক্রমণ করতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। উদ্ধারকৃত মরদেহটি এতটাই বিকৃত ছিল যে, প্রাথমিকভাবে তার লিঙ্গ শনাক্ত করাও কঠিন ছিল। এছাড়া মরদেহের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং শরীরের কিছু অংশ কুকুর খেয়ে ফেলেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর মুখমণ্ডলে ব্যাপক বিকৃতি ছিল এবং শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় তাকে যে ধর্ষণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ১১ সেপ্টেম্বর এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হতে পারে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, কিশোরী অভিযুক্তদের পরিচিত ছিল। ঘটনার দিন তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে একটি টেম্পোতে ছিলেন এবং টেম্পোর ভেতরেই তারা মদ্যপান করে। এরপর কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মরদেহটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর ফিরে আসতেন। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে ঘটনার সময় একটি টেম্পো দেখা যায়, যার গতিপথ অনুসরণ করে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে পুলিশ অভিযান চালায়।

অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন কিশোর। প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম, যিনি সুদামা বা চুচু নামেও পরিচিত এবং খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। অন্য তিন অভিযুক্তের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও পকসো আইনে মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাক্রম ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy