সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১৭৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এসব ফ্লাইটের ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্রী। বুধবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বেবিচকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাহত হওয়া মোট ১৭৪টি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ছিল ৯৭টি এবং বিভিন্ন দেশ হয়ে পরিচালিত ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল ৭৭টি। সরাসরি রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারের ১৯টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট রুটের ৭৭টি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থার সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইন্ডিগোর ওপর, যাদের ৩০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পটভূমিতেই সে দেশের কর্তৃপক্ষ আকাশপথ ও বিমান পরিচালনায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার সরাসরি ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য দেশ হয়ে সৌদিগামী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোতে।
এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেই স্থগিতাংশের মেয়াদ ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সম্প্রতি বিমান ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা হবে। তবে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা না থাকায় ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকছে।





