বৃহস্পতিবার থেকে পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর

Published: November 4, 2026, 3:42 pm

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বুধবার আয়োজিত এক জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানান। একই সাথে কারখানা মালিকদের প্রতি বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করতে ইতোমধ্যেই নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গত রোববার দুপুর ১২টার আগেই এ বোর্ড গঠন করে একই দিন সন্ধ্যায় গেজেট প্রকাশ করা হয়। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মাথায় বুধবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং চার দিনের মাথায় পুনরায় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মজুরি বোর্ডের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারিত হবে। এতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিই রয়েছেন এবং উভয় পক্ষই বোর্ডের চূড়ান্ত সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

আন্দোলন চলাকালে নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে সরকার শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সাময়িকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও এই পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের চিকিৎসার সুবিধার জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বুধবারই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া চালু হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া আদায়ের একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া রয়েছে। হুট করে রাস্তায় নেমে আসার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিকনেতাদের মাধ্যমে লিখিত আকারে দাবি পেশ করতে হবে। সরকার সাড়া না দিলে তবেই পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু কোনো আলোচনা বা আবেদন ছাড়াই বিশৃঙ্খলা করা অনুচিত।

তিনি আরও যোগ করেন, কলকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়ে, যা সার্বিকভাবে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে। এ কারণে শ্রমিকনেতাদের নিজ নিজ কারখানায় গিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি। অন্যদিকে, কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় থাকবে বলে মালিকদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

শিল্প খাতে চলমান এই অস্থিতিশীলতার পেছনে চক্রান্তের আশঙ্কা প্রকাশ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যারা দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করতে চায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার পাঁতারা করছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি। দেশের স্বার্থে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে এক জোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনার মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে দ্রুত সব কারখানায় পূর্ণ উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর প্রতিনিধি এবং শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin