রাজশাহীর নওহাটা, মৌগাছি ও কেশরহাট এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছেন এক প্রতারক ও তার সহযোগী। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুধু নওহাটা এলাকাতেই ২৮ জন ব্যবসায়ীর পাওনা রয়েছে প্রায় ৬২ লাখ টাকা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের তপন বাবুর চাউল মিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নওহাটা এলাকার চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রব। তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচণ্ডী (কড়াইতলা) এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান শিশু ও তার ব্যবসায়িক সহযোগী মো. আজমীর রহমানের সঙ্গে তারা ব্যবসা করে আসছিলেন। শুরুতে আজমীর ও শিশু নিয়মিত লেনদেন করলেও আগস্ট মাস থেকে তাদের মধ্যে অনিয়ম শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা টাকা পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, আজমীর রহমান তার মেহেরচণ্ডীর বাসা থেকে রাতের আঁধারে চলে গেছেন এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। আজমীর রহমানের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দগাছি ভাটপাড়া এলাকায়, তার বাবার নাম মৃত ইদ্রিস আলী এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আজমীর রহমানের সহযোগী ওয়াহিদুজ্জামান শিশু দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা চাইলে শিশু তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তারা এই দুই প্রতারককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, নওহাটার বাইরে মৌগাছি ও কেশরহাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছেও আজমীর রহমানের ৪০ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে।
ঘটনার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ শেখ মো. মোকবুল হোসেনের চেম্বারে ২৫-৩০ জন ব্যবসায়ী বৈঠক করেন। সেই অনুযায়ী তারা রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ করতে যান। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাবেক মেয়রের ফোন সত্ত্বেও চন্দ্রিমা থানার সেকেন্ড অফিসার তাদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেননি। এরপর পবা থানায় গেলেও সেখানেও অভিযোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা লেনদেন করেছেন এবং বাকি দিয়েছেন, কিন্তু পুলিশের কাজ বাকি উঠিয়ে দেওয়া নয়। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা সিভিল কোর্টে যেতে পারেন। তবে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবেই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ব্যবসায়ীরা এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে তাদের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার হয় এবং দোষীরা বিচারের মুখোমুখি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যবসায়ী নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ শেখ মো. মোকবুল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক করেন। সেখানে আলোচনা শেষে তাদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ করতে পাঠানো হয়। সাবেক মেয়র নিজেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করেন বলে জানান ব্য





