যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

Published: October 30, 2026, 5:30 pm

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা আবারও জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি তেহরানে পৌঁছেছে। মূলত আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে পারেন—এমন উদ্বেগ থেকে দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে কাতার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, স্থবির আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি রেজায়ির কাছে পৌঁছানো হয়। এতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান বার্তাটি পেয়েছে, তবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সম্ভাব্য বিকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারেও সামরিক বিমান পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে।

এসব সামরিক পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘শেষ না হওয়া যুদ্ধে’ রূপ নিতে দেবেন না। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সেপ্টেম্বরে আল জাজিরাকে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার ওপর তেহরান আর আস্থা রাখতে পারছে না, কারণ অতীতে আলোচনার সময়ও ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের জন্ম দিতে পারে। এখন কাতারের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দুই দেশ আলোচনায় ফিরবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে পড়বে—সেটিই দেখার বিষয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin