ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুদূর এগিয়ে নিতে ক্যানাডাকে জোটের ‘সহযোগী সদস্য’ করার একটি রূপরেখা দিয়েছেন ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। ক্যানাডার মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ক্যানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। কয়েক দশক ধরে এই সম্মেলন খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও এবার দুই পক্ষ কীভাবে সম্পর্ক গভীর করবে, সেদিকে বৈশ্বিক রাজনীতির কড়া নজর ছিল। অনলাইন বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের তথ্য জানানো হয়েছে।
ভন ডার লিয়েন জানান, প্রস্তাবিত এই অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো উদ্যোগের চেয়ে ক্যানাডাকে ইইউর সবচেয়ে বেশি কাছাকাছি নিয়ে আসবে। মূলত ইউরোপের বাইরের শীর্ষ সহযোগীদের জন্যই কেবল এই ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে, যার আওতায় শাসনব্যবস্থা, নীতি প্রণয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে দুই পক্ষ একযোগে কাজ করবে। গত মাসে ভন ডার লিয়েন প্রথম এই ধারণার কথা প্রস্তাব করেছিলেন, যদিও বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো পদ চালু নেই। ইতিপূর্বে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে ক্যানাডা ও ইউরোপ একসঙ্গে থাকলে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী কার্নি ক্যানাডাকে ইউরোপের কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৃষ্ট বাণিজ্য যুদ্ধের চাপ সামলাতেই তিনি এই কৌশল বেছে নিয়েছেন। তবে ইইউর ভেতরে এবং ক্যানাডার অভ্যন্তরে এই উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা মতভেদ দেখা দিয়েছে। জার্মানির মতো বেশ কিছু দেশ ‘সহযোগী সদস্য’ নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে; তাদের আশঙ্কা, জোটপ্রার্থী অন্য দেশগুলোর আগে ক্যানাডাকে হয়তো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় ইইউর অন্য সদস্য দেশের মতো ক্যানাডাকে সদস্য ফি দিতে হবে না, তবে উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে তারা। অন্যদিকে ক্যানাডার কনজারভেটিভ বিরোধী দলীয় নেতা পিয়েরে পোইলিভার বিষয়টির সমালোচনা করে বলেন, ইইউর সঙ্গে ইতিমধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং এই নতুন পদক্ষেপে ক্যানাডীয়দের মর্টগেজ বা মুদিখানার বিল কমবে না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ক্যানাডার ইইউর সহযোগী সদস্য হওয়ার ধারণাকে ‘হাস্যকর’ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি হুমকি দেন, এটিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ কাজ’ হিসেবে গণ্য করা হলে ইউরোপের পণ্যে অত্যন্ত মারাত্মক শুল্ক আরোপ করা হবে। অবশ্য ক্যানাডার কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করে বলেছেন, তাদের এই পদক্ষেপ কাউকে অপমান বা খাটো করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কার্নিও স্পষ্ট করেন, নতুন সম্পর্কের নাম কী দেওয়া হলো সেটি মূল বিষয় নয়, বরং এটি ক্যানাডীয়দের দৈনন্দিন জীবনে কী পার্থক্য তৈরি করছে সেটাই আসল।





