মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশে মাকতুব মিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

Published: September 25, 2026, 2:55 am

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সংবাদমাধ্যম মাকতুব মিডিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্রের করা অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় জ্যেষ্ঠ মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।

১৯ সেপ্টেম্বর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি নথিভুক্ত করা হয়। এফআইআরে কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা সম্পাদকের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ মূলত মাকতুবের এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত দুটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ এই পোস্টগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছে এবং এক্স কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছে।

পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, পোস্টগুলোতে এমন আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছিল যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সাম্প্রদায়িক শত্রুতা সৃষ্টি এবং জনমনে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে পারে। তবে এগুলো কেবল পুলিশের অভিযোগ, যা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ২০২৬ সালের ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাকতুবের এক্স অ্যাকাউন্টের লগইন ও ডিভাইস-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে, যা এফআইআর দায়েরের সময়ের চেয়েও আগের ঘটনা। মাকতুব এই সময়ের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এর পাশাপাশি, মেটা কর্তৃপক্ষ ১৯ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রাম থেকে এই সংক্রান্ত একটি গ্রাফিক্স ক্যারোসেল পোস্ট সরিয়ে নিয়েছে। আইটি বিধিমালার আওতায় আইনি নোটিশ পাওয়ার পর পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মহুয়া মৈত্র ১ সেপ্টেম্বর প্রথম অভিযোগ করেছিলেন যে, অমিত শাহের জুলাই ও আগস্ট সফরের সময় শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখা হয়েছিল।

এই বিষয়ে মহুয়া মৈত্র জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে অভিযোগ জানালে কমিশন ২১ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করে। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগ প্রকাশ করার ঘটনায় মহুয়া মৈত্রের নিজের বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি বা প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৪৩আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ৪৫

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh