জ্বালানি খাতের ৩৩০ কোটি ডলার ঋণের উদ্যোগে নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ

Published: October 8, 2026, 4:53 pm

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যে সরকারের প্রায় ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ভাসমান সুদের হারে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হলে তা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে সাধারণ জনগণকে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ূম সোবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো ঋণ নেওয়ার আগে দেশের প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা আয় এবং ভবিষ্যতে সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। সাময়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য এমন কোনো ঋণের বোঝা দেশের মানুষের ঘাড়ে চাপানো ঠিক হবে না, যা আগামী দিনে জনগণকে সংকটে ফেলবে।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির জন্য নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে এই ঋণের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া মেয়াদ শেষে ঋণ পরিশোধ বা এটি নবায়ন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে, এককালীন বড় অঙ্কের ডলারের সংস্থান করা দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এর সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা আরও বলেন, ক্রমাগত বৈদেশিক ঋণ বাড়তে থাকলে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশই কেবল ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করতে হবে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার চাপ তৈরি হবে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল ঋণ গ্রহণ কোনোভাবেই একটি দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না।

বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কঠিন শর্তে ঋণ নেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং এর পরিবর্তে কম খরচে অর্থায়নের বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের প্রতিটি শর্ত জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা। এছাড়া এই ঋণের অর্থ যাতে কোনো ধরনের অপচয়, দুর্নীতি বা অদক্ষ প্রকল্পে নষ্ট না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, ঋণ নিয়ে সাময়িকভাবে সংকট কাটানো গেলেও, সেই ঋণের দীর্ঘমেয়াদি বোঝা জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh