বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রাষ্ট্র ইসরায়েল, যা রাজনৈতিক চুক্তি, ঔপনিবেশিক হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘ সংঘাতময় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশটি লেবানন, সিরিয়া, জর্দান, ফিলিস্তিন ও মিসরের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। তেল আবিব দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হলেও জেরুজালেমকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলে মুসলিম জনসংখ্যার হার ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮.১ শতাংশ বা ১৭.৮২ মিলিয়ন। এদের একটি বড় অংশ আরব সুন্নি। জেরুজালেম শহরেই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান বাস করেন, যা ওই শহরের মোট জনসংখ্যার ৩৮.১ শতাংশ। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, ইসরায়েলি মুসলমানদের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সীমিত এবং তাদের কণ্ঠস্বর প্রায়শই উপেক্ষিত হয়।
মুসলিম নাগরিকদের জন্য নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তি, ভূমি বরাদ্দ এবং নির্মাণ অনুমতির মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল ও বৈষম্যপূর্ণ। কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। সরকারি ও সামাজিক কাঠামোতে তারা প্রতিনিয়ত নানা বাধার সম্মুখীন হন।
তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে। আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট আইজা মেরক হাইফাকে 'নো নিউজ সিটি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে রয়েছেন। তিনি একটি হাসপাতালের উদাহরণ দিয়ে জানান, সেখানে সমান সংখ্যক মুসলিম ও ইহুদি চিকিৎসক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। যদিও সাধারণ ধর্মীয় পালনের ক্ষেত্রে মুসলমানরা মসজিদে নামাজ পড়া বা ইসলামি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলেও, আল-আকসা মসজিদে প্রবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের জেরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনে সবসময়ই এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র আচরণের শিকার হতে হয় তাদের। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে মিছিলের সময় উগ্রপন্থীরা 'আরবদের মৃত্যু হোক' স্লোগান দেয় এবং আল-আকসা মসজিদ বা ইউএনআরডব্লিউএ কার্যালয়ে আগ্রাসন চালায়। এ সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, থুথু নিক্ষেপ ও তাদের বাড়িঘরে প্রবেশের মতো ঘটনাও ঘটেছে।





